যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার। এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩৬৬ কোটি ৮৭ লাখ ৮২ হাজার ৪০০ টাকা। গতকাল সচিবালয়ে অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া সভায় চাল ও সার কেনাসহ আরো বেশকিছু প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরের গানভর সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে ৬৭৫ কোটি ২৮ লাখ ৫৮ হাজার ১১২ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির মূল্য ধরা হয়েছে ১৪ ডলার ৮ সেন্ট। যুক্তরাজ্যের মেসার্স টোটাল এনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে এক কার্গো এলএনজি ৬৯১ কোটি ৫৯ লাখ ২৪ হাজার ২৮৮ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ধরা হয়েছে ১৪ ডলার ৫৭ সেন্ট।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন নন-বাসমতী সেদ্ধ চাল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতের মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে এ চাল আমদানিতে ব্যয় হবে ২৫৯ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা। প্রতি টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৪২৪ ডলার ৭৭ সেন্ট।
সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে ৭০ হাজার টন সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সৌদি আরবের মাদেন ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৪০ হাজার টন ডিএপি সার আমদানিতে ব্যয় হবে ৩০৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২৭ ডলার ৫০ সেন্ট। রাশিয়ার প্রডিনটর্গ ও বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ৩০ হাজার টন এমওপি সার ১১২ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকায় আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি টন সারের দাম ধরা হয়েছে ৩০৬ ডলার ৩৭ সেন্ট।
সভায় রাজধানীর মিরপুরে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ের জন্য ১০ তলা ভবন নির্মাণকাজের ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৮ টাকা। মুন্সীগঞ্জে বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের আওতায় পূর্ত-৫ প্যাকেজের লট-১ ও লট-৩-এর রাস্তা, সেতু ও অন্যান্য নির্মাণকাজের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৩৭ কোটি ৯৬ লাখ ৯৬ হাজার ১৮২ টাকা। আরএবি-আরসি (প্রাইভেট) লিমিটেড ও বিডিই লিমিটেড এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পেয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের অধীনে চাঁদপুরে একটি প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো কার্যক্রমের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। এক্ষেত্রে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ১৯৪ টাকা ব্যয় বেড়ে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ১০৮ কোটি ৩১ লাখ ৮২ হাজার ৭৬০ টাকায়। তমা কনস্ট্রাকশন কোম্পানি এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের কাছে ঘুনধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়াল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্পের অধীনে চকরিয়া থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত নির্মাণ কাজের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্যয় বাড়ছে ৪১ কোটি ২৪ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৭ টাকা। এতে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ৩ হাজার ৯১০ কোটি ৬৫ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৭ টাকায়। সিসিইসিসি-ম্যাক্সের যৌথ উদ্যোগে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সভায় চট্টগ্রামের ডবলমুরিং পুলিশ স্টেশন কম্পাউন্ডে ২০ তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের (প্রতি তলায় আটটি ইউনিট, ১,০০০ বর্গফুট) পূর্ত কাজের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে ব্যয় বাড়বে ১১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৭ টাকা। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ৯০ কোটি ৪৩ হাজার ৫৬৫ টাকায়। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করছে কুশলী নির্মাতা লিমিটেড।
তাছাড়া ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এলাকায় ২২ তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণের (প্রতি তলায় আটটি ইউনিট, ১,০০০ বর্গফুট) পূর্ত কাজের ভ্যারিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় বাড়বে ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৪ টাকা। ফলে সংশোধিত চুক্তিমূল্য দাঁড়াবে ৯১ কোটি ৬২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪৭ টাকায়। পদ্মা অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ করছে।